ঢাকা ০১:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গিয়াসউদ্দিন ও মামুনের মধ্যে কঠিন কোন্দল।

  • আপডেট সময় : ১১:১৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ৩০৫ জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের বক্তব্যের পাল্টা চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। তিনি বলেন, যদি উনার কাছে প্রমাণ থাকে তাহলে সেই প্রমাণ দিক। মুখে বলার তো প্রয়োজন পড়ে না।

 

রোববার (১ ডিসেম্বর) এক মন্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, উনি (মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন) আওয়ামী লীগের সাথে ছিলো। আবার এরশাদের সাথে ছিলো সেই ছবি তো আমরা প্রকাশ করি নাই। ১৩ সালে নুরুদ্দিন বিএনপি করতো শাহ আলম সাহেব বিএনপি করতো। এটাতো যুবদলের ব্যানারের ছবি। সে সময় তো অনেকেই বিএনপি করতো। উনারা তখন বিএনপি করতেন না পালিয়ে ছিলেন।

 

তিনি আরও বলেন, সাত খুন নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা আমিই বলি। নারায়ণগঞ্জে সাত খুন হয়েছে। নারায়ণগঞ্জকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। যারা আইভীর সাথে মিটিং করে যারা বাপ ছেলে শামীম ওসমানের ভোট চায় তারা আবার আমার সখ্যতার কথা বলে। সখ্যতার একটা ছবি দেখাক। তার কাছে প্রমাণ আছে সেই প্রমাণ দিক। তিনি না বলেছেন আমাদের কাছে তথ্য প্রমাণ আছে। প্রমাণ দিলেই তো হয়ে যায়। মুখে বলার দরকার নেই।

 

মামুন মাহমদু বলেন, আমার ছবি থাকে উনার কাছে যদি থাকে আমি জেলখানায় গিয়েছি তাহলে সেটা দিলেই তো হয়ে যায়। আমার রাজনীতি এক প্রমাণের ভিত্তিতে শেষ দিতে পারতো। এত ভালো প্রমাণ থাকার পরে ১৩ সালের ছবি দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তার কাছে রানিং ছবি আছে সেটা দেখাক। এটা দিলেই তো আমার রাজনীতি ধ্বংস হয়ে যায়।

 

এর আগে গত ৩০ নভেম্বর একটি সমাবেশে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমাদের নারায়ণগঞ্জে স্বৈরাচার সরকারের এক গডফাদার ছিল শামীম ওসমান। সে কি পরিমাণ অর্থ সম্পদ লুন্ঠন করেছেন তা সবারই জানা। এই গডফাদারের এক সন্ত্রাসী বাহিনী ছিল সিদ্ধিরগঞ্জে। সাত খুন মামলার ফাঁসির আসামি নূর হোসেন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তিনি জেলে বসে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। জেলে বসে তিনি টেলিফোনে বারবার যোগাযোগ করছে কি করে সিদ্ধিরগঞ্জে প্রভাব বিস্তার করা যায়। কিভাবে দাঙ্গা হাঙ্গামা করা যায়।

 

তিনি আরও বলেন, আমাদের দলের জনৈক এক নেতা যখন নূর হোসেন বাহিরে ছিল তখন তার অর্থ দিয়ে তিনি রাজনীতি করতেন। তিনি এখন জেলের মধ্যে থেকেও তাকে অর্থ দিচ্ছেন। ওই ব্যক্তিটি কিছুদিন আগে জেলখানায় গিয়ে নূর হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করে এসেছেন। এইসব তথ্য প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। নূর হোসেন টাকার সাপ্লাই দিচ্ছে আর শেখ হাসিনার গডফাদার শামীম ওসমান তা পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। আজও ওই ব্যক্তিকে দিয়ে আমাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

তার এই বক্তব্যের পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে নানা আলাপ আলোচনা চলমান রয়েছে। সেই সাথে বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের বিরোধীতা আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ট্যাগ :

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগ নেতা বাবু ও মোতালেব আটক।

গিয়াসউদ্দিন ও মামুনের মধ্যে কঠিন কোন্দল।

আপডেট সময় : ১১:১৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের বক্তব্যের পাল্টা চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। তিনি বলেন, যদি উনার কাছে প্রমাণ থাকে তাহলে সেই প্রমাণ দিক। মুখে বলার তো প্রয়োজন পড়ে না।

 

রোববার (১ ডিসেম্বর) এক মন্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, উনি (মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন) আওয়ামী লীগের সাথে ছিলো। আবার এরশাদের সাথে ছিলো সেই ছবি তো আমরা প্রকাশ করি নাই। ১৩ সালে নুরুদ্দিন বিএনপি করতো শাহ আলম সাহেব বিএনপি করতো। এটাতো যুবদলের ব্যানারের ছবি। সে সময় তো অনেকেই বিএনপি করতো। উনারা তখন বিএনপি করতেন না পালিয়ে ছিলেন।

 

তিনি আরও বলেন, সাত খুন নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা আমিই বলি। নারায়ণগঞ্জে সাত খুন হয়েছে। নারায়ণগঞ্জকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। যারা আইভীর সাথে মিটিং করে যারা বাপ ছেলে শামীম ওসমানের ভোট চায় তারা আবার আমার সখ্যতার কথা বলে। সখ্যতার একটা ছবি দেখাক। তার কাছে প্রমাণ আছে সেই প্রমাণ দিক। তিনি না বলেছেন আমাদের কাছে তথ্য প্রমাণ আছে। প্রমাণ দিলেই তো হয়ে যায়। মুখে বলার দরকার নেই।

 

মামুন মাহমদু বলেন, আমার ছবি থাকে উনার কাছে যদি থাকে আমি জেলখানায় গিয়েছি তাহলে সেটা দিলেই তো হয়ে যায়। আমার রাজনীতি এক প্রমাণের ভিত্তিতে শেষ দিতে পারতো। এত ভালো প্রমাণ থাকার পরে ১৩ সালের ছবি দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তার কাছে রানিং ছবি আছে সেটা দেখাক। এটা দিলেই তো আমার রাজনীতি ধ্বংস হয়ে যায়।

 

এর আগে গত ৩০ নভেম্বর একটি সমাবেশে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমাদের নারায়ণগঞ্জে স্বৈরাচার সরকারের এক গডফাদার ছিল শামীম ওসমান। সে কি পরিমাণ অর্থ সম্পদ লুন্ঠন করেছেন তা সবারই জানা। এই গডফাদারের এক সন্ত্রাসী বাহিনী ছিল সিদ্ধিরগঞ্জে। সাত খুন মামলার ফাঁসির আসামি নূর হোসেন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তিনি জেলে বসে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। জেলে বসে তিনি টেলিফোনে বারবার যোগাযোগ করছে কি করে সিদ্ধিরগঞ্জে প্রভাব বিস্তার করা যায়। কিভাবে দাঙ্গা হাঙ্গামা করা যায়।

 

তিনি আরও বলেন, আমাদের দলের জনৈক এক নেতা যখন নূর হোসেন বাহিরে ছিল তখন তার অর্থ দিয়ে তিনি রাজনীতি করতেন। তিনি এখন জেলের মধ্যে থেকেও তাকে অর্থ দিচ্ছেন। ওই ব্যক্তিটি কিছুদিন আগে জেলখানায় গিয়ে নূর হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করে এসেছেন। এইসব তথ্য প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। নূর হোসেন টাকার সাপ্লাই দিচ্ছে আর শেখ হাসিনার গডফাদার শামীম ওসমান তা পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। আজও ওই ব্যক্তিকে দিয়ে আমাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

তার এই বক্তব্যের পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে নানা আলাপ আলোচনা চলমান রয়েছে। সেই সাথে বিএনপির জাতীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের বিরোধীতা আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।