ঢাকা ০৬:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

  • আপডেট সময় : ১০:৫৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • ৬৬৪ জন দেখেছে

রাজধানী ও বড় শহরগুলোয় উন্নয়ন প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ মোটাদাগে উচ্চারিত হয়ে থাকে। সেখানে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রকল্পগুলো তো বেহাল হবেই। বিশেষ করে টিআর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্প নিয়ে প্রায়ই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

গ্রামীণ এলাকায় রাস্তাঘাট সংস্কারে এসব প্রকল্প নেওয়া হলেও সেসবের সুফল পাচ্ছে না মানুষ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে ও তদারকির অভাবে এসব অনিয়ম করার সুযোগ পাচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। যেমনটি আমরা দেখতে পাচ্ছি বগুড়ার শেরপুর উপজেলায়।

সেখানে একটি ইউনিয়নের ২০টি প্রকল্পের বাস্তবায়নে যে অনিয়ম ধরা পড়েছে, তাতে উপজেলার বাকি ইউনিয়নের প্রকল্পগুলো নিয়ে আমরা সন্দিহান।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, কুসুম্বি ইউনিয়নে চলমান প্রকল্পগুলোর বিপরীতে বরাদ্দ ধরা হয় ১৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রায় ৩৫ মেট্রিক টন গম ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

গত জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা হয়নি। সড়ক সংস্কারের এসব প্রকল্পের কয়েকজন সভাপতির ভাষ্য, প্রকল্পগুলো নিয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। তাঁরা শুধু কাগজে সই করেছেন আর কাজ করেছেন অন্যরা। প্রকল্পের বরাদ্দ কোথায় কীভাবে খরচ হয়েছে, সে ব্যাপারেও বলতে পারছেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা।

এই যদি হয় চিত্র, তাহলে বোঝাই যাচ্ছে, সেখানে কীভাবে প্রকল্পের কাজগুলো চলছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা গেছে, স্থানীয় মানুষ নিজ খরচে প্রকল্পাধীন সড়কে মাটি কেটেছেন। অনেক জায়গায় নিম্নমানের সরঞ্জাম দিয়ে সড়ক ও নালা তৈরি করা হয়েছে। এখনই ইট ভেঙে যাচ্ছে। আবার কোথাও প্রয়োজন অনুসারে বসানো হয়নি ইট। নিশ্চিত করেই বলা যায়, এমন পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে।

প্রকল্পের বিপরীতে কত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, কত টন গম–চাল বিক্রি করা হয়েছে, তা নিয়ে কিছুই বলতে পারছেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, গোটা ইউনিয়নে প্রকল্পগুলো নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ঘটেছে। সেটি সম্ভব হয়েছে মূলত উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের (পিআইও) তদারকির অভাবে।

অভিযোগ আছে, কোনো কোনো কর্মকর্তা এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য, উপজেলায় এমন অন্তত ৪০০টি প্রকল্প রয়েছে।

সব প্রকল্পের কাজ ঘুরে দেখা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা অবাক হই, এমন কথা কী করে বলতে পারেন তিনি! তিনি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ভাষ্য, অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন তাঁরা কী ব্যবস্থা নেন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

ট্যাগ :

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

পুলিশের লুন্ঠিত একটি অস্ত্র আড়াইহাজার থানা পুলিশ কর্তৃক উদ্ধার।

জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

আপডেট সময় : ১০:৫৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

রাজধানী ও বড় শহরগুলোয় উন্নয়ন প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ মোটাদাগে উচ্চারিত হয়ে থাকে। সেখানে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রকল্পগুলো তো বেহাল হবেই। বিশেষ করে টিআর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্প নিয়ে প্রায়ই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

গ্রামীণ এলাকায় রাস্তাঘাট সংস্কারে এসব প্রকল্প নেওয়া হলেও সেসবের সুফল পাচ্ছে না মানুষ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে ও তদারকির অভাবে এসব অনিয়ম করার সুযোগ পাচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। যেমনটি আমরা দেখতে পাচ্ছি বগুড়ার শেরপুর উপজেলায়।

সেখানে একটি ইউনিয়নের ২০টি প্রকল্পের বাস্তবায়নে যে অনিয়ম ধরা পড়েছে, তাতে উপজেলার বাকি ইউনিয়নের প্রকল্পগুলো নিয়ে আমরা সন্দিহান।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, কুসুম্বি ইউনিয়নে চলমান প্রকল্পগুলোর বিপরীতে বরাদ্দ ধরা হয় ১৪ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রায় ৩৫ মেট্রিক টন গম ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

গত জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা হয়নি। সড়ক সংস্কারের এসব প্রকল্পের কয়েকজন সভাপতির ভাষ্য, প্রকল্পগুলো নিয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। তাঁরা শুধু কাগজে সই করেছেন আর কাজ করেছেন অন্যরা। প্রকল্পের বরাদ্দ কোথায় কীভাবে খরচ হয়েছে, সে ব্যাপারেও বলতে পারছেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা।

এই যদি হয় চিত্র, তাহলে বোঝাই যাচ্ছে, সেখানে কীভাবে প্রকল্পের কাজগুলো চলছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা গেছে, স্থানীয় মানুষ নিজ খরচে প্রকল্পাধীন সড়কে মাটি কেটেছেন। অনেক জায়গায় নিম্নমানের সরঞ্জাম দিয়ে সড়ক ও নালা তৈরি করা হয়েছে। এখনই ইট ভেঙে যাচ্ছে। আবার কোথাও প্রয়োজন অনুসারে বসানো হয়নি ইট। নিশ্চিত করেই বলা যায়, এমন পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে।

প্রকল্পের বিপরীতে কত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, কত টন গম–চাল বিক্রি করা হয়েছে, তা নিয়ে কিছুই বলতে পারছেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, গোটা ইউনিয়নে প্রকল্পগুলো নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ঘটেছে। সেটি সম্ভব হয়েছে মূলত উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের (পিআইও) তদারকির অভাবে।

অভিযোগ আছে, কোনো কোনো কর্মকর্তা এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য, উপজেলায় এমন অন্তত ৪০০টি প্রকল্প রয়েছে।

সব প্রকল্পের কাজ ঘুরে দেখা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা অবাক হই, এমন কথা কী করে বলতে পারেন তিনি! তিনি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ভাষ্য, অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন তাঁরা কী ব্যবস্থা নেন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।